dhakarkhobor24.com
প্রকাশ : May 8, 2026 ইং

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত নেওয়া প্রয়োজন: মারদিয়া মমতাজ

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ।

তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত যাচাই, স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মিডিয়া বাজারে 'সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা' শীর্ষক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। 'এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ' এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ, স্কুল পরিচালনা ও অবকাঠামোগত সমস্যার নানা দিক তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্কুলগুলোতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

প্রায় ৭৩ হাজার পদ খালি আছে। অথচ ২০২৫ সালে মাত্র ১০ হাজার পদের সার্কুলার হয়েছে।
এটি শুধু অর্থের সমস্যা নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতা। কারণ অর্থের অভাব হলে বেতন দেওয়া যেত না। কিন্তু এখানে নিয়োগ প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হচ্ছে না।

স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এসএমসি) নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এসএমসিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকই এসএমসির প্রধান হন। ফলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইংলিশ মিডিয়াম ও কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার মতে, অনেক এলাকায় ছোট ছোট ভবনের একেকটি ফ্লোরে মাদরাসা বা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল চালু করা হচ্ছে। যেখানে ন্যূনতম মান বজায় রাখা হয় না। তিনি একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন, যাতে নিবন্ধন ও ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা যায়।

ফাজিল ও কামিল ডিগ্রিধারীদের চাকরির ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাগজে সমমান থাকলেও বাস্তবে অনেক চাকরির আবেদনে তাদের সুযোগ দেওয়া হয় না। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানান।

স্কুল ভবন নির্মাণ নিয়ে তিনি বলেন, নতুন ভবন করার আগে পুরোনো ভবনের অবস্থা মূল্যায়ন জরুরি। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় তিনি কয়েকটি স্কুলে গিয়ে দেখেছেন, অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে খোলা মাঠে প্যান্ডেল করে ভোটকেন্দ্র পরিচালনা করতে হয়েছে।

শিক্ষকদের জন্য ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনারও সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, ট্যাবের চেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য স্টেশনারি, পোস্টার ও সৃজনশীল উপকরণ বেশি কার্যকর হবে। এতে শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়বে।

কোচিং নিয়েও তিনি একটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলেই অতিরিক্ত ক্লাস নেবেন এবং এর খরচ সরকার বহন করবে। তবে তারা বাইরে ব্যক্তিগত টিউশন করতে পারবেন না। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিলেই সমাধান হয় না; কার্যকর ব্যবস্থাও দরকার।




মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

1

রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানার অতীত অপরাধনামা

2

মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক

3

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

4

ব্যাংকিং সুবিধা যুক্ত করতে ‘এক্স মানি’ আনছেন ইলন মাস্ক

5

২৩ বছর আগের রেকর্ড ভাঙলেন শান্ত-মুমিনুল

6

পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার : স্বরাষ

7

ফেনীতে আদালতকক্ষে বিষপান করলেন যৌতুক মামলার বাদী

8

হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

9

ফেনীর রাশেদের প্রলোভনে নিঃস্ব বহু পরিবার, বাড়ছে অভিযোগ

10

ঈদের আগে-পরে ৭ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ

11

ঢাকার বাতাস বিশ্ব দূষণের তালিকায় আজ ৩

12

জুলাই সনদ এড়িয়ে যেতে সরকার টালবাহানা করছে

13

যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা: বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

14

টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

15

মুগদায় খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

16

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

17

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে ইসলামী আন্দোলন, দুই সিটিত

18

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, জিডি

19

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

20