বিশেষ প্রতিবেদন: ফেনী সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের মালিপুর গ্রামের ফকির বাড়ির মৃত নুর ইসলামের ছোট ছেলে রাশেদুল ইসলাম রাশেদকে ঘিরে এমএলএম ও গেম লিংকভিত্তিক ব্যবসার আড়ালে আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাশেদ দীর্ঘদিন ধরে একাধিক এমএলএম ও অনলাইন গেম লিংকভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতেন। তার সঙ্গে যুবক, ডেসটিনি, ওয়ার্ল্ড মিশন ২১সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রেবনেক্স, নেভেদা নামের গেম লিংকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগে বলা হয়েছে, আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষকে এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত না পেয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একাধিক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, “লাভের আশায় বিনিয়োগ করেছিলাম, এখন মূলধনটাই হারিয়েছি।”
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ঢাকা,বগুড়া, রংপুর, যশোর ,ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ১০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়াও রাশেদের বিরুদ্ধে অবৈধ হুন্ডি ও স্বর্ণ ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেনীর একজন প্রফেসরের দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি তার গ্রামের বাড়ি মালিপুরে প্রায় ৫০ শতক জমি ক্রয় করেছেন।
পাশাপাশি ছাগলনাইয়া উপজেলার একটি বাণিজ্যিক মার্কেটে বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকায় বসে এসব নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তিনি অবস্থান গোপন রেখে দেশ-বিদেশে যাতায়াত করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না; বরং পূর্বের কথোপকথনের রেকর্ড ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দ্রুত প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত রাশেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানী তথ্য নিয়ে দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশিত হবে।