রাজধানীতে সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে এলপি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন।
সর্বশেষ নির্ধারণ অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,৯৪০ টাকা হলেও বাস্তব বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তাদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর, যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ সংকট, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনার অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছেন।
মোহাম্মদপুর এলাকার এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার দাম নির্ধারণ করলেও আমরা সেই দামে গ্যাস পাই না। বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।”
অন্যদিকে, কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিলার পর্যায় থেকেই বেশি দামে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তারা নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার অসঙ্গতিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তদারকির ঘাটতির কারণে বাজারে এর কার্যকর প্রভাব এখনো দৃশ্যমান নয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে কঠোর নজরদারি, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা না গেলে এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
উপসংহার:
সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন না থাকায় এলপিজি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ফলে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন রাজধানীর সাধারণ মানুষ।