রাজধানীর কাঁচাবাজারের সবচেয়ে বড় আড়ত কারওয়ান বাজারে
দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন
ঢাকা-১২ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম
খান মিলন।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীতে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আয়োজিত এক বিশেষ বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি করেন।
তিনি
স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতেও কারওয়ান বাজারে তৎকালীন সরকারি
দলের লোকজন চাঁদাবাজি করত, আর ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও এখনো বর্তমান সরকারি
দলই সেখানে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
আড়তদারদের
আর্থিক হয়রানির একটি খণ্ডচিত্র তুলে ধরে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য অভিযোগ
করেন, শুধু কারওয়ান বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই প্রতি
মাসে গড়ে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই
চাঁদাবাজ চক্রের কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। অথচ এই ভয়াবহ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা থানা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও পুলিশ প্রশাসন
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে
তিনি দাবি করেন।
বাজেট সংলাপে
নিজের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে সাইফুল আলম খান মিলন
বলেন, কারওয়ান বাজারের এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি নিয়ে কথা না বলতে খোদ তাকেও
বিভিন্ন মহল থেকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং চুপ থাকার পরামর্শ দেওয়া
হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ী ও জনগণের স্বার্থে তিনি এই অন্যায়ের
বিরুদ্ধে কথা বলে যাবেন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা এই চাঁদাবাজ চক্রের
কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাজারে আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে সংলাপে
উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।