dhakarkhobor24.com
প্রকাশ : May 10, 2026 ইং

৬ মিনিটের জন্য অন্ধকারে ঢাকা পড়বে পৃথিবী

মহাকাশপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরল ও শ্বাসরুদ্ধকর মহাজাগতিক মুহূর্তের হাতছানি নিয়ে আসছে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। সেদিন পৃথিবীর আকাশে এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যা এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে স্থলভাগ থেকে দৃশ্যমান দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে। 

এই মহাজাগতিক ঘটনায় পৃথিবীর একাংশ প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবে। সাধারণ সূর্যগ্রহণগুলো সাধারণত ৩ মিনিটের কম স্থায়ী হলেও এই গ্রহণটি তার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সময় স্থায়ী হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই বিরল ঘটনাটিকে ‘গ্রেট নর্থ আফ্রিকান ইক্লিপস’ নামে অভিহিত করেছেন।

এই বিরল সূর্যগ্রহণের পূর্ণ পথটি প্রায় ২৫৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হবে এবং এটি তিনটি মহাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে চাঁদের এই বিশাল ছায়া প্রথমে দক্ষিণ স্পেন, উত্তর মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মধ্য মিসর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন এবং সোমালিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাবে। 

সবশেষে এটি ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জের কাছে গিয়ে শেষ হবে। বিশেষ করে মিসরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর এবং লিবিয়ার মতো অঞ্চলগুলোতে ৬ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে পূর্ণ অন্ধকার বিরাজ করবে। আগস্ট মাসে এই অঞ্চলগুলোর আকাশ সাধারণত পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকায় এটি পর্যবেক্ষণের জন্য এক আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, স্থানীয় সময় অনুযায়ী দক্ষিণ স্পেনে দুপুর দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে এবং মিসর ও লিবিয়ায় দুপুর দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে এই পূর্ণ অন্ধকার দেখা যেতে পারে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে এই দৃশ্য সেভাবে উপভোগ করা যাবে না। 

কেবল ভারতের পশ্চিম প্রান্তের কিছু অঞ্চলে সূর্যাস্তের সময় সামান্য আংশিক গ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই গ্রহণের অস্বাভাবিক দীর্ঘ স্থায়িত্বের পেছনে বেশ কয়েকটি বিরল মহাজাগতিক কারণ কাজ করছে। ওই সময়ে পৃথিবী সূর্য থেকে তার কক্ষপথের সবচেয়ে দূরে অবস্থান করবে এবং চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে। ফলে চাঁদকে পৃথিবী থেকে বড় এবং সূর্যকে সামান্য ছোট দেখাবে, যা গ্রহণটিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করবে।

অস্বাভাবিক এই সূর্যগ্রহণটি বিষুবরেখার কাছাকাছি পথ দিয়ে অতিক্রম করায় চাঁদের ছায়া পৃথিবীর পৃষ্ঠের ওপর দিয়ে তুলনামূলকভাবে ধীরে সরবে, যা এর স্থায়িত্ব বাড়ানোর মূল কারণ। এই শতাব্দীসেরা মহাজাগতিক দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করতে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী ও পর্যটকরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। 

উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে এই সময় পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও এটি এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

সূত্র: নাসা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ন্যায়বিচার পাবেন : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য

1

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ২৮ মে

2

মা নিয়ে যত গান

3

আজ শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী

4

ফেনীতে আদালতকক্ষে বিষপান করলেন যৌতুক মামলার বাদী

5

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

6

ব্যাংকিং সুবিধা যুক্ত করতে ‘এক্স মানি’ আনছেন ইলন মাস্ক

7

বাতিল নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা করব

8

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

9

তারকাবহুল আনন্দমেলা

10

মুশফিকের সেঞ্চুরিতে বড় লিড পেলো বাংলাদেশ

11

মে দিবসে গুগলের ডুডলে কর্মজীবী মানুষের গল্প

12

৪ অঞ্চলে ঝোড়ো বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

13

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

14

রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানার অতীত অপরাধনামা

15

ডুয়েটে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে ছাত্রশিবিরের ষড়যন্ত্

16

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

17

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনমত নেওয়া প্রয়োজন: মারদিয়া মমতাজ

18

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

19

৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি

20