মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৬’ এর জমকালো ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন পর্বের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই তিনি আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে যান একই ভবনে অবস্থিত একটি আধুনিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে (ডে কেয়ার সেন্টার)। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় এই বিশেষ ডে কেয়ার সেন্টারটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
এক খণ্ড শৈশবে প্রধানমন্ত্রী: প্রটোকল ভেঙে শিশুদের মাঝে
প্রধানমন্ত্রী যখন ডে কেয়ার সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করেন, তখন পুরো কক্ষটি ছিল শিশুদের খেলনার শব্দ, আনন্দঘন চিৎকার আর সুউচ্চ হাসিতে মুখরিত। চারদিকের চার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল কোমলমতি শিশুদের ছুটোছুটির আওয়াজ। ঠিক এই প্রাণবন্ত ও কোলাহলপূর্ণ আবহে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে যে কঠোর নিরাপত্তার দেয়াল সাধারণত গড়ে ওঠে, শিশুদের ভালোবাসার টানে আজ যেন তা মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সমস্ত প্রটোকল ও কঠোর নিরাপত্তার বলয় দূরে সরিয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮টি মিনিট সময় কাটান। এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে উপস্থিত সকলের কাছে মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যেন ক্ষণিকের জন্য তাঁর নিজের ব্যস্ততম জীবনের ক্লান্তি ভুলে সেই হারিয়ে যাওয়া সোনালী ও ভাবনাহীন শৈশবে ফিরে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বকে এত কাছে পেয়ে শিশুদের আনন্দের আর সীমা ছিল না। তারা এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। ভেতরে প্রবেশ করার পরপরই প্রধানমন্ত্রী কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই অত্যন্ত সহজ ও সাবলীলভাবে শিশুদের সঙ্গে মিশে যান। মুহূর্তের মধ্যে সেন্টারের সব শিশু তাঁকে চারদিক থেকে ছেঁকে ধরে এবং মনের আনন্দে ঘিরে দাঁড়ায়। কোনো কোনো শিশু পরম মমতায় ও সাহসে প্রধানমন্ত্রীর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় করমর্দন (হ্যান্ডশেক) করার জন্য, আবার কেউ কেউ তাঁর জামার হাতা ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল নিজেদের খেলনা দেখানোর জন্য।
কেক কাটা ও জন্মদিনের আনন্দ
এই আনন্দঘন পরিদর্শনের সবচেয়ে চমৎকার দৃশ্যটি তৈরি হয় যখন বেশ কয়েকজন শিশু প্রধানমন্ত্রীকে তাদের নিজেদের হাতে আঁকা নানাবর্ণের ছবি দেখাতে শুরু করে। কোনো শিশু এঁকেছে লাল-সবুজ পতাকা, কেউ বা নদী-নৌকা ও প্রকৃতির ছবি। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রতিটি শিশুর আঁকা ছবি দেখেন এবং তাদের এই সৃজনশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় তাঁর মুখে ছিল এক চিলতে তৃপ্তির ও পরম স্নেহের হাসি। কখনো তিনি মমতায় শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন, আবার কখনো শিশুদের আধো-আধো কথার চমৎকার জবাবে প্রাণখুলে হেসে উঠছিলেন।
এক পর্যায়ে ডে কেয়ার সেন্টারের মাঝখানে শিশুদের নিয়ে টেবিলের চারপাশে জড়ো হন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাদের জন্য একটি দৃষ্টিনন্দন কেক রাখা ছিল। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকল শিশুকে সঙ্গে নিয়ে সমবেত কণ্ঠে কেক কাটেন। তবে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে শিশুদের মাঝে ললিপপ, চকোলেট, টফি এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী ভর্তি সুন্দর গিফট ব্যাগ বিতরণ করেন। চকোলেট ও টফি বিতরণের সময় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত চঞ্চল ও কৌতুকপূর্ণ সুরে শিশুদের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞেস করেন, আর কেউ কি বাকি আছে? তোমরা সবাই পেয়েছ তো?
মন্তব্য করুন