বিশেষ প্রতিনিধি:চিকিৎসা পেশা শুধু রোগ নির্ণয় ও ওষুধ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোও একজন চিকিৎসকের অন্যতম দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে ফেনীর মানুষের কাছে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন ডা. মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
ডা. মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন মেডিসিন বিষয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ডে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, হরমোন, বক্ষব্যাধি ও বিভিন্ন মেডিসিন-সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর BMDC রেজিস্ট্রেশন নম্বর A-42876।
দীর্ঘদিন তিনি ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, চিকিৎসায় দক্ষতা এবং মানবিক আচরণের কারণে তিনি ফেনীর মানুষের কাছে আস্থার চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
করোনাকালে ঝুঁকি নিয়ে রোগীর পাশেডা. জামাল উদ্দিনের চিকিৎসক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় করোনা মহামারির সময়ের চিকিৎসাসেবা। ভয়াবহ সেই সময়ে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুভয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন আতঙ্ক বিরাজ করছিল, তখন চিকিৎসকরাও নানা ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নিরাপত্তার কারণে রোগী দেখা থেকে বিরত থাকলেও ডা. জামাল উদ্দিন নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়ে তিনি করোনা আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত মানুষেরও চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়েছেন।
করোনার কঠিন সময়ে তাঁর এই সাহসী ও মানবিক ভূমিকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। ফেনীর মানুষের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন একজন মানবিক ডাক্তার। তাঁর চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাঁকে সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে বলে জানা যায়।
রোগীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগচিকিৎসাসেবা শুধু চেম্বার বা হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ রাখেননি ডা. জামাল উদ্দিন। রোগীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার জন্য তিনি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
রোগীরা তাঁদের শারীরিক সমস্যা বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয় জানালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দূরবর্তী এলাকার অনেক রোগীও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পান।
প্রযুক্তিকে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত করে রোগীদের কাছে আরও সহজে পৌঁছানোর এই উদ্যোগ তাঁর দায়িত্বশীলতা ও রোগীবান্ধব মানসিকতার আরেকটি দৃষ্টান্ত।
নিজ এলাকার মানুষের জন্য নিয়মিত চিকিৎসাসেবাহাসপাতাল ও কর্মস্থলের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের জন্যও নিয়মিত সময় দেন ডা. জামাল উদ্দিন। প্রতি সপ্তাহে একদিন তিনি নিজ এলাকায় গিয়ে রোগী দেখেন। এতে এলাকার সাধারণ ও অসচ্ছল মানুষ স্থানীয়ভাবে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান।
চিকিৎসাসেবাকে তিনি শুধু পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে দেখেন না; মানুষের প্রয়োজন ও সামর্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তাঁর আন্তরিকতা ও সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে রোগীদের মধ্যে তাঁর প্রতি রয়েছে বিশেষ আস্থা।
ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমচিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সমাজের মানুষের কল্যাণেও সম্পৃক্ত রয়েছেন ডা. জামাল উদ্দিন। তাঁর একটি ফাউন্ডেশন রয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে ফাউন্ডেশনটি সম্পৃক্ত রয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার এই মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
চিকিৎসক পরিচয়ের বাইরেও একজন মানবিক মানুষএকজন চিকিৎসকের প্রকৃত সাফল্য শুধু তাঁর ডিগ্রি বা কর্মস্থলের পরিচয়ে নয়; রোগীর দুঃসময়ে কতটা পাশে দাঁড়াতে পারেন, মানুষের প্রতি তাঁর আচরণ কেমন এবং সমাজের জন্য কতটা অবদান রাখেন—সেখানেও তাঁর পরিচয় ফুটে ওঠে।
করোনার ভয়াবহ সময়ে ঝুঁকি নিয়ে রোগীর পাশে দাঁড়ানো, দীর্ঘদিন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের দায়িত্ব পালন, নিজ এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখা, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকা—সব মিলিয়ে ডা. মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন চিকিৎসাসেবায় মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ফেনীর মানুষের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো একজন মানবিক ডাক্তার।