সৌদি আরবের স্থানীয় সময় আজ ৯ জিলহজ মঙ্গলবার। আজ
পবিত্র হজ। সোমবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে। মক্কার পবিত্র
মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে তাঁবুর নগরী মিনায় পৌঁছেছেন
লাখো হজযাত্রী। সেখান থেকে আজ মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর আল্লাহর মেহমানরা
রওনা হচ্ছেন আরাফাতের ময়দানে। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হবে- ‘লাব্বাইক
আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা
ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।’ এর বাংলা অর্থ—‘আমি
হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত
শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’
হাজিরা
সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিদায় হজের স্মৃতিবিজড়িত এই আরাফাতের ময়দানে অবস্থান
করবেন। আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে জোহরের নামাজের শেষ ওয়াক্তে হজের
খুতবা পাঠ করা হবে। এরপর সেখানে সমবেতরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও
আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন। এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা
ও দোয়ায় অংশ নেবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের পর কিছু সময় পর্যন্ত
আরাফাতের ময়দানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। সূর্য অস্ত যাওয়ার পরে মাগরিবের
নামাজ আদায় না করেই আরাফাতের ময়দান থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন
তারা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে
রাতযাপন করবেন। মুযদালিফা থেকেই মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য
কংকর সংগ্রহ করা হবে।
এরপর,
১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ
আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। প্রথমে জামারাতে শয়তানকে প্রতীকী পাথর
নিক্ষেপ, এরপর পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং পরে মক্কায় গিয়ে
তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন হাজিরা। পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান
করে তিন জামারাতে পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। সবশেষে বিদায়ী
তাওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। কাবা শরিফ সাতবার
তাওয়াফ করে হাজিরা শেষ করবেন তাদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত, পবিত্র
হজ।
ইসলামী
ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয়
পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হলে শয়তান তাকে বাধা দেয়ার
চেষ্টা করেছিল। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন।
সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামারাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।
সৌদি
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের হজে অংশ নিতে বিশ্বের ১৬০টিরও বেশি দেশ থেকে
মুসল্লিরা সৌদি আরবে এসেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি
ব্যবস্থাপনায় অংশ নিয়েছেন ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী। বাংলাদেশি হাজিদের
জন্য মিনায় ও আরাফাতে আলাদা ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সহায়তা এবং হজ মিশনের
তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে,
সৌদিতে সোমবার গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর
রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, তীব্র গরমে
ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে
এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া,
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে
ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।