ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকায় বসবাসকারীরা আজ শুক্রবার (২২ মে)
থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। এদিন সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে
যাত্রীদের স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি চাপ লক্ষ্য করা যায়।
ঈদের নির্ধারিত ছুটি এখনো শুরু না হলেও স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোনেদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন চাকরিজীবীদের কেউ কেউ।
তবে
ঢাকা থেকে ট্রেন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সকালে রাজশাহীগামী ধূমকেতু
এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে
দেরিতে ছাড়তে দেখা যায়। তবে যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়েও এই
ট্রেনগুলো এমন বিলম্ব করে। এরপরও নিরাপদে বাড়িতে যেতে পারলেই খুশি তারা।
কামাল
নামে এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, আমাদের ছুটির আরও কয়েকদিন পরে। তাই
পরিবারের অন্য সদস্যদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। ট্রেন ছাড়তে একটু দেরি
হচ্ছে। তবে ট্রেনের যাত্রা অনেকটা নিরাপদ মনে হয়।
শিউলি
বেগম নামে এক নারী বলেন, সন্তানদের নিয়ে আগে বাড়ি যাচ্ছি। দেরি হলে
মানুষের চাপ বেড়ে যায়। এছাড়া বাড়িতে ঈদের প্রস্তুতিরও একটা ব্যাপার রয়েছে।
ঢাকা
কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার কবির হোসেন বলেন, সকাল থেকে ১১টি আন্তঃনগর
ট্রেন ছেড়ে গেছে। ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা
হয়েছে। টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে ঢুকতে পারবে না।
এদিকে
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট
নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়
বিজিবি মোতায়েন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিজিবির ভেরিফায়েড ফেসবুক
পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবির
ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের ৭ দিন আগে থেকে
শুরু করে ঈদের পরবর্তী ৩ দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজিবি সদস্যরা জনসাধারণের নিরাপদ-নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ
করবেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক ও
যানজটপ্রবণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের
কার্যক্রমে তারা সহায়তা করবেন।
এর
আগে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের জন্য টানা সাত দিনের
ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ছুটির আগে ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) সরকারি
অফিস খোলা থাকবে। গত ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন
জারি করে।
সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা
হলেও জরুরি কিছু সেবা এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যুৎ,
পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ; ফায়ার সার্ভিস ও বন্দরগুলোর কার্যক্রম;
টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবা; পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং এসব কাজে
নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা ও চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক,
স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন।
প্রজ্ঞাপনে
জানানো হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার
বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। একইভাবে উচ্চ আদালত ও
নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
বেসরকারি
শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কল-কারখানার ছুটির বিষয়ে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’
অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও
নির্দেশনা জারি করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।