রাজধানীর মুগদায় এক অজ্ঞাত পুরুষের খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ
উদ্ধার করেছে পুলিশ। পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাবিহীন মরদেহের সাতটি খণ্ড
উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর পাশের এলাকা থেকে মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। এই
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার
(১৭ মে) বিকেলে মুগদা এলাকার মান্ডা আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর
‘শাহনাজ ভিলা’র বেজমেন্ট থেকে প্রথমে ওই ব্যক্তির মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ
উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের
তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের
সাতটি খণ্ড উদ্ধার করে। তবে সেখানে তার মাথা পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, লাশটির মাথা, হাত ও পা টুকরো টুকরো করা ছিল।
এরপর
আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার
দিকে পার্শ্ববর্তী পূর্ব মানিকনগর পাকার মাথার গলির ৭৭ ও ৭৭/এ নম্বর বাড়ির
মাঝে থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মুগদা
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু রায়হান ও অনুপ বিশ্বাস জানান, একটি কালো
পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি
বিকেলে উদ্ধার হওয়া মরদেহেরই বিচ্ছিন্ন অংশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের
খণ্ডিত অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে
পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নিহত ব্যক্তির হাতের একটি অংশের সন্ধান মেলেনি বলে
জানিয়েছে পুলিশ।
মুগদা
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া দেহটি পচাগলা
অবস্থায় ছিল এবং পেট থেকে ভুঁড়ি বেরিয়ে আসছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা
হচ্ছে, আনুমানিক ৬-৭ দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোথাও হত্যার পর পরিচয় গোপন
ও আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে এখানে ফেলে রেখে
গেছে।
মতিঝিল
বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, অজ্ঞাত এক পুরুষের
খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য
উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।