যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সংকট আরও
ঘনীভূত হচ্ছে। এবার তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছেন।
কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্টারমারের
কাছে লেখা চিঠিতে স্ট্রিটিং লেখেন, তিনি তার (স্টারমার) নেতৃত্বে আস্থা
হারিয়েছেন। সুতরাং সরকারি পদে থাকা তার জন্য আর সম্মানজনক হবে না এবং
নীতিগতভাবেও ঠিক হবে না।
চিঠিটি
এক্সে শেয়ার করেছেন স্ট্রিটিং। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, এটি স্পষ্ট যে,
কিয়ার স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।
প্রধানমন্ত্রীকে
লেখা চিঠিতে স্ট্রিটিং লেখেন, যেখানে আমাদের দূরদৃষ্টি দরকার, সেখানে
আমাদের আছে শূন্যতা। যেখানে আমাদের দিক নির্দেশনা দরকার, সেখানে আমরা ভেসে
চলছি।
ওয়েস
স্ট্রিটিং লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে
চলেছেন বলে জল্পনা ডালপালা মেলেছিল আগেই। এর মধ্যেই তার পদত্যাগের খবর
এলো।
তবে
স্ট্রিটিং এখনও স্টারমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেননি।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে গেলে
স্ট্রিটিংকে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন জোগাড় করতে হবে।
গত
সপ্তাহে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লেবার
পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর দল থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো
হয়েছে। কয়েক ডজন এমপি স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
এমন
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার সকালে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময় বৈঠক করেন স্ট্রিটিং।
নির্বাচনে
লেবার পার্টির ভরাডুবির জন্য সরকারের অজনপ্রিয়তাকে দায়ী করে স্ট্রিটিং
বলেন, দলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ‘ভিশন’ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু
বর্তমানে সেখানে একটি ‘শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে।
স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নেতারা সাধারণত দায়িত্ব নেন, কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় তার বদলে অন্য কাউকে বলির পাঁঠা হতে হচ্ছে।
দেশের
বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যে সাহসী সমাধান প্রয়োজন, বর্তমান সরকার
তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও স্ট্রিটিং মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের
নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করায় এবং দলীয়
এমপিদের অব্যাহত চাপের মুখে বর্তমানে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব টেকাতে লড়াই
করছেন কিয়ার স্টারমার।