আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে
মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ
করেছে সরকার।
সোমবার
(১১ মে) রাজধানীর বনানীতে ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক
ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
তিনি
জানান, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বাজেটে
এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী
দেশের বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, একসময়
ট্যাক্স-জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১১ থেকে ১২ শতাংশের বেশি থাকলেও বর্তমানে তা ৭
শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং
সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
এই
পরিস্থিতি উত্তরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এ আমূল সংস্কারের
প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা সংস্কার
প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির
সুপারিশের ভিত্তিতেই রাজস্ব কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন করা হবে।
দক্ষ
জনশক্তি তৈরির গুরুত্বারোপ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বড় অংশই আসে অদক্ষ শ্রমিকদের কাছ থেকে।
যদি শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়, তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৫০ বিলিয়ন
ডলারের ওপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তিনি
আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যমান দক্ষতা উন্নয়ন স্কুলগুলোর সার্টিফিকেশন
আন্তর্জাতিক মানের না হওয়ায় বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই
সমস্যা সমাধানে সরকার দেশব্যাপী বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পাশাপাশি
আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
বিগত
সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের দুর্নীতির কারণে গত দেড়
দশকে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের জন্য
কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি
অভিযোগ করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নামে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আইসিটি
খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা নয়ছয় করেছে, যা এই খাতের প্রকৃত সম্ভাবনাকে
বাধাগ্রস্ত করেছে। তবে বর্তমান সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন নতুন
কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জন্য একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক
ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে তিনি সভায় উল্লেখ করেন।